কবিতা
আজকে লেখার মত কোন কবিতা নেই।
মনের মধ্যে, মাথার মধ্যে, শরীরের মধ্যে
এক ঘৃণার সমুদ্র বয়ে চলেছে
কিছুতেই একে তাড়াতে পারি না
কিছুতেই অগ্নুৎপাত বন্ধ হয় না
মাথার ভেতরে, কান্ধের ভেতরে
সটসট করে বিরক্তি নামতে থাকে
যতবার তোমার গলার থেকে
যেকোন শব্দ বাইরয়
এই পৃথিবীতে তোমার অপ্রয়োজনীয়তা
ততবার আমি চিন্তা করি
হয়ত তুমি মানুষ খারাপ না
হয়ত কি
এই পৃথিবীতে কেউই সেইভাবে খারাপ না
আমার পৃথিবীতে তুমার অপ্রয়োজনীয়তা
তুমার লাল চোখের দৃষ্টি
নোংরা ঠেকে
আমার পৃথিবীতে তুমি চেঁচাও
হুদাহু চেঁচাও
আমার পৃথিবীতে তুমার শব্দ ঢুকলেই আমার গোসল করতে ইচ্ছা করে
আমি গোসল করি
সেতারের শব্দে- সাকামতোর গামাপাধানি তে
আমি ডুব দেই
তুমি আমার নাড়ী ধরে টান দাও
তোমার পৃথিবীতে একদিন
আমার পৃথিবী বারান্দা বুনেছিল
বারান্দার সূর্যধোয়া মেঝেতে
আমরা চিনি দেয়া বিস্কুট আর
এককাড়ি ভালবাসা বিছাইয়া বইসা থাকতাম
আমাদের ছোট ভাই ছিল- তখনো
আকাশ থেকে ওর হাসি মুছে যায়নাই- তখনো
আমাদের তখন ছোট ভাই ছিল
ছাদের ঘরে কাঠের গুড়া ছিল
আর আধাভাঙ্গা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে
সত্যকারের হাসিঅলা মানুষগুলা
আমাদের জন্য অপেক্ষা করত
তোমার জন্য ঘৃণার সাগর বওয়া শুরু হলে
আমি চিন্তা করি
কোন একদিন তুমি আমাকে
ডি মাইনরে গান দিছিলা
তুমার মধ্যে কি এখনও ডি মাইনর আছে?
থাকলে ভাল
মানব সমাজে অন্তত তুমি অছ্যুৎ হবানা
মানব সমাজে অছ্যুৎ হলেও
তোমার মনে তুমি অছ্যুৎ হবানা
তোমার নোংরা গুলা ধুইয়া তুমি মানুষ হয়া যাও
মানুষকে পীড়া দিও না আর
গাছকে পীড়া দিও না আর
শিশুকে পীড়া দিও না আর
তুমার ওপর ঘিন্না করলে
কপালের ভাঁজ বাড়ে
নিঃশ্বাস ছুটো হয়
মাথার মধ্যে তিতা কবিতা
ঘুরাফিরা করে
তুমি হইলা সেইরকম মানুষদের একজন
যার জন্ম আশেপাশের নদীনালা
নলখাগড়াকে
তিতা কইরা ছাড়ে
তুমি বাচ্চা দিসিলা কিন্তু
বাচ্চার মনটারে
কাপড় চিপার মতন
পাকাইতে পাকাইতে
সব পানি ঝরাইয়া
বাচ্চাটা শুখায়া গেসে
বাচ্চাটারে ডাক্তারের কাছে নেও নাই
ইস্কুলের কাছে নেও নাই
রঙধনুর কাছে নিবা বইলা
বৃষ্টির মাঝেও নাও নাই
বাচ্চাটারে অজ্ঞান হয়া পরতে দেখে
আমার হৃদয়ে হাত রাখো নাই
একটাবার কাছে আসো নাই।
এইজন্য তোমার উপর ঘিন্না করলে
কপালের ভাঁজ বাড়ে
মন তিতা হয়
আমার এখন ছোট ভাই আছে
কাঠের গুঁড়া নাই কিন্তু গানের খাতা আছে
অপেক্ষা করার মানুষ আছে
যার সত্যকারের হৃদয়ে সত্যকারের হাসি আছে
আমি আর গরীব নাই
আর ভীতু নাই
তবু তোমারে দেখলে তিতা লাগে।
Comments
Post a Comment