ভূত থেকে ভূতে

 মুক্তিযুদ্ধ, শাহাবাগ আন্দোলন আসলে কাজে দেয়নি। অসাম্প্রদায়িকতার বীজ যেমন ছিল তেমনি আছে। ১৮৪৮ সালে মেয়েদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমেছিল কিছু নারীপুরুষ। এই ২০২১ সালেও মেয়েরা যেন দুটা কথা বলে শেষ করতে পারে, সমান সমান বেতন যেন হয় তা নিয়ে ঘ্যানঘ্যান চলছে। সে মোতাবেক ২০১৩ সালে হওয়া আন্দোলনকে প্রস্ফুটিত হতেই লাগবে আরো ১৭৩ বছর। ইভোলিউশন এর মত এই পরিবর্তন ও সময় নেবে। 


জামাতের কাছে আমাদের শেখার আছে অনেককিছু। আমি যাতে তব্দা খেয়ে যাই তা হল, ব্যক্তিগত লেভেলে মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ। শিক্ষক ছাত্রকে দ্বিনের পথে আনে, বন্ধু বন্ধুকে, পিতা ছেলেকে...ভুত থেকে ভুতে। সে থেকে শিক্ষা পেয়ে আমি এখন জানি, ভুত থেকে ভুতে করা (কথা বলা) বেশ কাজের বিষয়।


নারীর অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা সবকিছু নিয়েই কাছের মানুষদের সাথে কথা বলুন, সাথে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আপনার জীবনের গল্প শুনে তাঁদের জীবনবোধ ব্যপ্ত হবে, আর তাঁদের গল্প শুনে আপনার। ব্যপ্তি যত বাড়বে, মূল্যবোধের তত পরিবর্তন হবে।  আত্মীয় যখন টিভি দেখতে দেখতে ক্যাজুয়ালি বলবে,  হিন্দুরা আসলেই সব ভারতে এক পা বাড়ায় রাখে- তখন ভেতরে ভেতরে দগ্ধ না হয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করুন, "আমরা যদি ভারতে এ অবস্থায় থাকতাম,  তুমি কি পাকিস্তানে গিয়ে ভাল থাকতে পারতা? কোন পর্যায়ে গেলে নিজের দেশ ছেড়ে একটা মানুষ অন্য দেশে যেতে চায়?"  চা খেতে গিয়ে পাশে বসা চাচা যখন হিন্দুদের গালি দেয়, তার সাথে হাসিমুখে কথা বলুন। অন্তর থেকে জানতে চান হিন্দুরা তার কি ক্ষতি করেছে৷ দুই তিনবার "কেন" জিজ্ঞেস করলে চতুর্থবার এম্নিতেই তিনি চিন্তা করা শুরু করবে। চাচার নিজেরও জানা দরকার হিন্দুদের তিনি আসলে কেন এত অপছন্দ করে? আসলেই কি এর কোন ভিত্তি আছে কিনা উনার মনে। 

আত্মীয়, চা দোকানের চাচা- তারা পরিবর্তন হয়ে আরেকজনকে পরিবর্তন করবে। সার্কেলটা আরেকটু বড় হবে। ভুত থেকে ভুতে। মিথ্যাকে আস্তে ধীরে ঢেকে দেবে সত্য। সত্য প্রিভেইলস। 

Comments