মা
জজকোর্টের রমিজউদ্দীন,
সোনালী ব্যাংকের হালিমা খাতুন,
আর আমি,
একই দিনে একই গতিতে
যোনিপথ ভ্রমণ করলাম।
আমি আর হালিমা খাতুন স্থান পেলাম
তোমার খাতায়,
পেলাম মাতৃজন্মের তীব্র আশীর্বাদ।
আমাদের যোনিভ্রমণ ধন্য হল,
আমরা উদ্ভাসিত হলাম স্বর্গীয় চিৎকারে।
আর,
রমিজউদ্দীন কি হল, কবি?
পিতৃত্বের দৈবযোগে তার হৃদয় ঝলসায় না?
জোছনায় রমিজউদ্দীন মাথা মুন্ডন করে
গৃহত্যাগ করে,
আর হালিমা খাতুন তার ঘন চুল
আলতো করে খোঁপায় বেধে
নাগেশ্বরী ফুলের মত পিঠা ভাজে।
কে কবে দেখেছে সরল মায়ের সহজ মুখের হাসি?
হে কবি,
মিথ্যার ঝুপড়িতে অভিসার আর কত?
তোমার তুলি কোন অপরুপাকে
আয়নায় ধরে রাখতে চায়?
সে জীবন্ত মা নয়, কবি
মায়ের ঝলসানো মাংসে
দাগ কেটে কেটে
যা গড়েছ তুমি, ভাস্কর,
আমি অভিশাপ দেই-
তোমার আত্মা সে মূর্তির অন্তর্গত হোক
তোমার হৃদয় বাঁধা পড়ুক কবিতায়
তোমার চোখের জল দ্বিমাত্রিক হোক
তোমার শ্বাস বন্দী হোক ছন্দে।
তবে তুমি বুঝবে কবি-
সর্বগ্রাসী জোছনায়
গৃহত্যাগের অভিরুচি
মায়েদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে
দামামা বাজিয়ে চলে।
বর্মের ভারে আটকে পরা
জীবনের ভার
কে বইতে পারে,
কবি?
তোমার আঁশটে শিল্প পুড়ে খাক হোক।
Comments
Post a Comment