ছোটবেলায় লেখা কবিতা-২০০৪
চিনি কি তোমায় আমি?
দেখেছিলাম কোনদিন?
কোন নদীর পারে,
শালবনের ধারে?
অথবা দেখেছি কি নবান্নের উৎসবে
হৈ চৈ কিংবা কলরবে-
যেখানে মিথ্যে চাষীর মিথ্যে সুখের সাজ নিয়ে
নারী-পুরুষ নেচে বেড়ায়,
গান গায়, পদ্য পড়ে
তখন দর্শকের সারির অন্তরালে
নীরবে নিভৃতে হঠাৎ
হাতটা কি মিলেছিল
তোমার হাতের সাথে?
অথবা ছিল তখন
ঝলমলে সন্ধ্যা
নিয়নের চটকে
প্রকৃতি যে বন্ধ্যা।
চাঁদ ছিল আলো ঢাকা-
আলোর কি খেয়ালে
আলো এসে উঁকি দেয়
স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে।
সেদিন কি ছিলে তুমি
দেয়ালের সামনে?
সেদিন মিথ্যে মনের আড়াল ফেলে
চুলের বাঁধন ছেড়ে দিয়ে
দেখেছিলেম তোমায় আমি-
পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে?
চাঁদের আলোও মিথ্যে হল
মিথ্যে হল রাতের সাজি,
সেই সেরাতের তারার আলোয়
ধরার সাথে তোমার আমার হল কি এক বাজি!
মুক্তি নিয়ে, হৃদয় দিয়ে,
ভালাবাসার আঘাত হেনে
উড়িয়ে দিয়ে কালোর দেয়াল
সত্যকে আজ আনব মোরা টেনে।
এই, সমাজখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে,
ভেঙে ফেলে মনের প্রাচীর,
গুটিয়ে নেব আমি-তুমি
কু-ডাক ডাকা প্রাণের সার।
থাকবে কি সেই দিনের শেষে
আমার কাছে, আমার পাশে?
তোমায় ছাড়া আধেক আমি
আধেক হয়েই রব যে।
পূর্ণতারই দৃষ্টি নিয়ে
সৃষ্টি ছাড়া কৃষ্টি দিয়ে-
মনের মাঝে সাজিয়ো আমায়
তোমার মতন করে।
নইত আমি তোমার সাধক
কিংবা তোমার পূজার সেবক
শিখেছিলাম পূজো দিতে
নিতে তো শিখিনি।
তাই, পায়ের কাছে অর্ঘ্য যখন
এল আজি নিজ গুণেতেই
ঠেলে দিয়ে ভেবেছিলাম
হয়ত আমিই তুমি।
চোখটা খুলে দেখতে গিয়ে
ভালবাসার মূল্য দিয়ে
তোমায় পেলেম,
বুঝেছিলেম,
সত্ত্বা বই নও কিছু আর।
আমার মাঝে তোমায় আমি লালন করেছি।
তোমায় আমায় মিলে গিয়ে
ভুলহীন এক মানুষ হয়ে
রঙিন লগ্ন গড়ার স্বপ্ন
আমি গড়েছি।
আজ, পুজোর ডালা নেবার পালা
যখন তোমার এল,
তখন শিউড়ে উঠে এই আমাকে
শুধাই আমি বারে বারে,
মিলব তো আজ এই সাঁঝেতে
তোমাতে-আমাতে?
Comments
Post a Comment